অ্যান্ড্রয়েড ফোন সুরক্ষিত রাখার ৫টি উপায়

অ্যান্ড্রয়েড ফোন সুরক্ষিত রাখার উপায় অনেক রায়েছে যা নিয়ে আজকের এই পোস্টটি লেখা হয়েছে। তাই আপনারা অ্যান্ড্রয়েড ফোন সুরক্ষিত রাখার বেশকিছু উপায় সম্পর্কে আজকে জানতে পারবেন। বর্তমান সময়ে স্মার্ট ফোন আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা সাথী। আমরা যেনো বর্তমান স্মার্ট ফোন ছাড়া চলতেই পারি না। অ্যান্ড্রয়েড হচ্ছে বিশ্বের স্মার্ট ফোন অপারেটিং সিস্টেমগুলোর মধ্যে অন্যরকম জনপ্রিয়। যেহেতু বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করে সে ক্ষেত্রে এই ফোনের ঝুঁকিও বেশি।

আমরা স্মার্ট ফোন চালানোর জন্য বিভিন্ন অ্যাপ ডাউনলোড করি Google Play Store থেকে ইন্সটল করে ব্যাবহার করে থাকি। আর এ অ্যাপ গুলো ডাউনলোড করার আগে পারমিশন চাইলে আপনাদের ব্যাবহার করার জন্য তা পারমিশন দিতে হয়। আমরা যদি সেই পারমিশন না দেই তাহলে অ্যাপ ডাউনলোড করতে পারবো না বা ব্যাবহার করতেও পারবো না। এজন্য হ্যাকারদের কাছে একটি সুযোগ থেকে যায় আমাদের ডিভাইস হ্যাক করার জন্য। তাই আপনাদের অ্যান্ড্রয়েড ফোনটিকে কিভাবে সুরক্ষিত রাখা যায় সেই সম্পর্কে জানতে পারবেন। অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসগুলোকে আরও বেশি সুরক্ষিত করতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে গুগল সহ অন্য কোম্পানি গুলো।

বিশেষ করে কোম্পানি গুলো গত কয়েক বছরে নতুন প্রাইভেসি ও ডাটা প্রোটেকশন পলিসির মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস গুলোকে আরও বেশি সুরক্ষিত করার চেষ্টা করছে। তবে বেশিরভাগ ব্যবহারকারী গন তাদের ভুলের জন্যই অ্যান্ড্রয়েড ফোন হ্যাক হয়ে থাকে হ্যাকাররা। আপনাদের ফোন এর ঝুঁকি বা বিপদ এড়াতে বেশ কয়েকটি ‘ভালো অভ্যাস’ যা আপনারে নিজেকেই গড়ে তুলতে হবে। প্রত্যেকের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্ট ফোনে ব্যক্তিগত এবং অর্থনৈতিক অনেক তথ্য থাকে।

০১. আপনার ব্যাবহার করা অ্যান্ড্রয়েড ফোন সুরক্ষিত রাখতে চাইলে Google Play Store থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করুন তাতে আপনার ফোনের বিপদ অনেকটাই কমে যাবে। প্লে-স্টোর ছাড়া অন্য কোনও সাইট বা সোর্স থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করবেন না করলে আপনার ফোনের অনেক ক্ষতি হতে পারে। বিভিন্ন সাইট বা সোর্সে পরিচিত অনেক অ্যাপস পাওয়া যায় সেখান থেকে ডাউনলোড না করে বরং Google Play Store থেকে ওই একই অ্যাপ সার্চ করে ডাউনলোড করে ব্যাবহার করেন।

০২. আপনার অ্যান্ড্রোয়েড স্মার্ট ফোনের অপ্রয়োজনীয় বা যে অ্যাপ এবং ফাইল সম্পর্কে আপনি জানেন বা কাজে লাগবে না সেই অ্যাপ বা ফাইল ডিলিট করে দিয়ে আপনার ফোন টা সব সময় ফ্রেশ রাখবেন। নিজের প্রয়োজনীয় হয় না এরকম কোনো অ্যাপ দেখলে সাথে সাথে আনইন্সটল করে ফেলতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় নিজের ফোনে এমন একটি অ্যাপ ইনস্টল হয়ে গেছে যা আপনি কখনও ইনস্টল করতে চাননি বা কোন কাজেই লাগবে না সেই অ্যাপটি আনইন্সটল করে দিতে হবে। এ ধরনের অ্যাপ দিয়ে তথ্য চুরি করা যেতে পারে এর থেকে আপনি বড় বিপদে পড়তে পারেন তাই সাবধানে সব অ্যাপ আনইন্সটল করতে হবে।

০৩. আপনার ব্যবহৃত স্মার্ট ফোনের ‘পারমিশন ম্যানেজার’ ফিচারটির প্রতিও কঠিন নজর রাখতে হবে। বিভিন্ন অ্যাপের বিভিন্ন রকম পারমিশনের প্রয়োজন পরে আপনারে সে ক্ষেত্রে কঠিন নজর রাখতে হবে। অ্যাপ অনুযায়ী কল লিস্ট, মাইক্রোফোন, ক্যামেরা, ফাইলস অ্যান্ড মিডিয়া ইত্যাদিতে প্রবেশের অনুমতি চাওয়া হয় তা দেখে পারমিশন দিতে হবে। তবে কোনও অ্যাপ অযৌক্তিক কিছু পারমিশন চাইলে তা দেবেন না। বরং অ্যাপটিই আন-ইনস্টল করে দিন তাহলে আপনার জন্য ভালো হবে।

০৪. আপনার অ্যান্ড্রোয়েড স্মার্ট ফোনের সেটিংস থেকে ‘ইনস্টল আন-নোন অ্যাপস’ নামের অপশনটি ডিজেবল করে দিন তাহলে আর এমন কোন সমস্যা হবে না। এই অপশন ডিজেবল করে রাখলে আপনার অনুমতি ছাড়া কোনও অ্যাপস ইনস্টল হবে না। অন্যথায় যেকোনো সময় যেকোনো ভাবে হ্যাকারদের অ্যাপ ইনস্টল হয়ে যেতে পারে।

৫. আপনার ফোনে যেসকল অ্যাপস আপনি নিয়মিত ব্যবহার করেন না সেগুলো সব আনইন্সটল বা ডিলিট করে দিন আবার কখনো প্রয়োজন হলে ডাউনলোড করে নিন কারণ, অব্যবহৃত অ্যাপসগুলো সময়মতো আপডেট করা হয় না। ফলে সেগুলো আগের মত সুরক্ষিত থাকে না তাই ডিলিট করে দেওয়াই ভালো। এসব অ্যাপের সাহায্যে আপনার স্মার্ট ফোনে ম্যালওয়্যার অ্যাপস গুলো খুব সহজেই আপনার ফোনে প্রবেশ করতে পারে যা আপনি বুঝতেও পারবেন না।

Leave a Comment